
প্রশ্ন : অনেকেই বলে থাকেন, আত্মহত্যাকারীর জানাজা পড়া এবং তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা হারাম। এ ব্যাপারে ইসলামের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি কী?
উত্তর : আত্মহত্যা মহাপাপ। পবিত্র কোরআনে এ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আত্মহত্যাকারীর জানাজা পড়া যাবে না বা তাদের ক্ষমার জন্য দোয়া করা যাবে না- এ ধারণা ভুল। ইমাম আবু হানিফাসহ অধিকাংশ ইমাম বলেছেন, আত্মহত্যাকারীর জানাজা পড়তে হবে। তবে পরবর্তী সময়ে কেউ যেন আত্মহত্যা না করে সে জন্য সমাজের প্রধান ধর্মীয় নেতা তার জানাজা পড়া থেকে বিরত থাকবেন।
আর প্রত্যেক মুসলিমের জন্যই দোয়া-দরুদ এবং দান-সদকা করা যায়। সে যত বড় অপরাধীই হোক না কেন। তাই আত্মহত্যাকারীর জন্য দোয়া করতে কোনো বাধা নেই।
সূত্র : মুসলিম, হাদিস : ৯৭৮; তিরমিজি, হাদিস : ১০৬১; ফতোয়ায়ে শামি, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ১০৮
আত্মহত্যা আল্লাহর নিয়মের ওপর চূড়ান্ত হস্তক্ষেপ
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَن تَكُونَ تِجَارَةً عَن تَرَاضٍ مِّنكُمْ ۚ وَلَا تَقْتُلُوا أَنفُسَكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا – وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ عُدْوَانًا وَظُلْمًا فَسَوْفَ نُصْلِيهِ نَارًا ۚ وَكَانَ ذَٰلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرًا.
অনুবাদ :
২৯) হে ঈমানদারগণ! তোমরা পরস্পরের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ে ফেলো না। লেনদেন হতে হবে পারস্পরিক রেজামন্দির ভিত্তিতে। আর নিজেকে হত্যা করো না। নিশ্চিত জানো, আল্লাহ তোমাদের প্রতি মেহেরবান। ৩০) যে ব্যক্তি জুলুম ও অন্যায় বাড়াবাড়ি করে এমনটি করবে তাকে আমি অবশ্যই আগুনে নিক্ষেপ করবো। আর আল্লাহর জন্য এটা কোনো কঠিন কাজ নয়। (সূরা আন নিসা)
নামকরণ ও সূরা আন নিসার সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান
(আরবি ভাষায় : سورة النساء, অর্থ “মহিলা”) আল-কুরআনের চতুর্থ সূরা, এর আয়াত সংখ্যা ১৭৬টি এবং এর রুকুর সংখ্যা ২৪টি। আন নিসা সূরাটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে। ২৪ নং আয়াতে উল্লিখিত ‘আন নিসা’ শব্দ থেকে এ সূরা নামকরণ হয়েছে। এ সূরাতে মুসলিমদের জীবন পরিচালনা ও কিভাবে একতাবদ্ধ থাকতে হবে সে সম্পর্কে বলা আছে।
নাজিল হওয়ার সময়কাল ও বিষয়বস্তু
এ সূরাটি কয়েকটি ভাষণের সমষ্টি। সম্ভবত তৃতীয় হিজরির শেষের দিক থেকে নিয়ে চতুর্থ হিজরির শেষের দিকে অথবা পঞ্চম হিজরির প্রথম দিকের সময়-কালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে এর বিভিন্ন অংশ নাজিল হয়। (তাফহীমুল কুরআন)
সূরা নিসার আলোচ্য বিষয়
এই সূরাটির মধ্যে অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তবে মৌলিক আলোচ্য বিষয় দুটি। ক. নারী, এতিম, উত্তরাধিকার, বিবাহ ও পারিবারিক অধিকার সংক্রান্ত।
খ. বৃহৎ পরিবার, মদিনার বিভিন্ন সম্প্রদায় যেমন মুনাফিক, কাফির ও মুশরিক এবং তাদের সঙ্গীদের বিভিন্ন আলোচনা।
আলোচ্য আয়াতদ্বয়ের বিষয়বস্তু
এখানে মহান আল্লাহ অনেক ব্যাপারে মু’মিনদের নসিহত করেছেন।
ক. তোমরা পরস্পরের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ে ফেলো না।
খ. লেনদেন হতে হবে পারস্পরিক রেজামন্দির ভিত্তিতে।
গ. আর নিজেকে হত্যা করো না।
ঘ. জুলুম ও বাড়াবাড়ি করা যাবে না।
ঙ. জুলুম ও বাড়াবাড়ি করলে অবশ্যি আগুনে নিক্ষেপ করা হবে।
এ আয়াতসমূহে মৌলিকভাবে যে সকল ব্যাপারে বলা হয়েছে তার ব্যাখ্যা করা এ পরিসরে সম্ভব নয়। এ জন্য وَلَا تَقْتُلُوا أَنفُسَكُمْ ‘আর নিজেকে হত্যা করো না’ এ নির্দেশ দ্বারা কী বুঝানো হচ্ছে তা নিয়েই আলোচনা করা হলো।
আয়াতের তাফসির
وَلَا تَقْتُلُوا أَنفُسَكُمْ ‘আর তোমরা নিজেকে হত্যা করো না’ এ বাক্যটি আয়াতের আগের বাক্যের পরিশিষ্ট হতে পারে আবার একটি স্বতন্ত্র বাক্যও হতে পারে। একে যদি আগের বাক্যের পরিশিষ্ট মনে করা হয় তাহলে এর অর্থ হয় অন্যের অর্থ-সম্পদ অবৈধভাবে আত্মসাৎ করা আসলে নিজেকে ধ্বংসের মুখে নিক্ষেপ করার নামান্তর। এর ফলে সমাজব্যবস্থায় বিপর্যয় দেখা দেয়। এর অনিষ্টকর পরিণতি থেকে হারামখোর ব্যক্তি নিজেও রক্ষা পেতে পারে না এবং আখেরাতে এর কারণে মানুষ কঠিন শাস্তির অধিকারী হয়। আর যদি একে একটি স্বতন্ত্র বাক্য মনে করা হয় তাহলে এর দু’টি অর্থ হয়।
এক. পরস্পরকে হত্যা করো না।
দুই. আত্মহত্যা করো না।
মহান আল্লাহ এ ক্ষেত্রে এমন ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ ব্যবহার রেখেছেন এবং বাক্য এমনভাবে গঠন করেছেন যারা ফলে এই তিনটি অর্থই এখান থেকে পাওয়া যেতে পারে এবং তিনটি অর্থই সত্য। (তাফহীমুল কুরআন) আয়াতের এ অংশের তাফসির আল মাওয়ারদিতে (অনū ধষ-ঐধংধহ ‘অষī ওনহ গঁḥধসসধফ ওনহ ঐধনīন ধষ-গāধিৎফī ৯৭২-১০৫৮) বলা হয়েছে-
১. ولا يقتل بعضكم بعضا ‘তোমরা একে অপরকে হত্যা করো না।’
২. نهى أن يقتل الرجل نفسه في حال الغضب و الضجر ‘ব্যক্তি নিজেকে রাগ অথবা উত্তেজনার সময় হত্যা না করা।’ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনুল কায়্যিম আল জাওযি (রহ) বলেন এখানে পাঁচটি কথা বলা হয়েছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে- و أن الله حرم على العبد قتل نفسه ‘আল্লাহ তাআলা ব্যক্তিকর্তৃক নিজেকে হত্যা করা হারাম করেছেন।’ প্রাগুক্ত কয়েকটি তাফসিরের ভাষ্য অনুযায়ী আত্মহত্যা করা হারাম প্রমাণিত হয়।
আত্মহত্যা কাকে বলে?
আত্মহত্যা মানে নিজেকে নিজে ধ্বংস করা। নিজ আত্মাকে চরম কষ্ট ও যন্ত্রণা দেওয়া। নিজ হাতে নিজের জীবনের যাবতীয় কা-ের পরিসমাপ্তি ঘটানো।
ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে আত্মহত্যা
আত্মহত্যা সম্পর্কে ইসলামী শরিয়ত কী বলে? ইসলামের দৃষ্টিতে আত্মহত্যা কবিরা গুনাহ। শিরকের পর সবচে বড় গুনাহ। সকল ফিকহবিদ এবং চার মাজহাবেই আত্মহত্যা হারাম। কারণ, আল্লাহ তাআলা মানুষকে মরণশীল হিসেবেই সৃষ্টà

